১৬ প্রতিষ্ঠানের সমান জরিমানা গুনল দারাজ!

বোরহান উদ্দিন, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ১৮ অক্টোবর ২০২১, ২০:০৭ | প্রকাশিত : ১৮ অক্টোবর ২০২১, ১৯:০৯

বিদ্যুৎ না থাকলে চার্জারের আলোতে ঘরে আলো জ্বলবে এই ভাবনা থেকে অনলাইনে দারাজ বাংলাদেশে রিচার্জেবল ঝুলন্ত লাইটের অর্ডার করেছিলেন আসাদুজ্জামান। কিন্তু লাইটটি বুঝে পাওয়ার পর দেখেন এটি  ঝুলিয়ে রাখার যে রিং থাকার কথা সেটা নেই। বলা হয়েছিল এক চার্জে আলো দেবে চার ঘণ্টা। কিন্তু ২০ মিনিট পার হতেই বন্ধ হয়ে যায় প্রয়োজনীয় লাইট। পরে তিনি দারাজের কাছে নিম্নমানের পণ্য পাওয়ার বিষয়টি জানিয়ে অভিযোগ করেন।

ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান দারাজ বাংলাদেশের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ নতুন নয়। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী পণ্য সরবরাহ না করা, মূল্য তালিকা না দেখানো, পণ্যের মোড়ক ব্যবহার না করা এবং মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে গ্রাহকদের প্রতারিত করারও অভিযোগ আছে তাদের বিরুদ্ধে।
প্রতারণার শিকার হওয়া গ্রাহকরা কোথাও প্রতিকার না পেয়ে দারাজসহ অন্যান্য ই-কমার্সের বিরুদ্ধে অভিযোগ দেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে। গ্রাহকদের প্রতারিত হওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেয় সংস্থাটি।
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালের জুলাই থেকে চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত যেসব ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ভোক্তা অধিকারে মামলা হয়েছে, একে একে তার শুনানি করা হয়। তাতে ১৭টি প্রতিষ্ঠানকে প্রায় ৬ লাখ টাকা জরিমানা করে ভোক্তা অধিকার কর্তৃপক্ষ।
এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি জরিমানা গুনতে হয়েছে দারাজ বাংলাদেশকে। কেবল এই প্রতিষ্ঠানকেই সর্বোচ্চ ৩ লাখ ২৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এর মধ্যে ২০১৮ সালের অভিযোগের জন্য দুটি বড় জরিমানা গুনতে হচ্ছে দারাজকে।
শুধু তাই নয়, একই অভিযোগ একাধিকবার প্রমাণ হওয়ায় দ্বিগুণ জরিমানা করার বিধান আছে ভোক্তা অধিকারের আইনে। এমন অভিযোগের কারণে দারাজের জরিমানার পরিমাণ বেশি হয়েছে বলে জানিয়েছেন ভোক্তা অধিকারের একজন কর্মকর্তা।
দারাজ ছাড়াও সহজকে ৬৮ হাজার টাকা, আজকেরডিলকে ৪৫ হাজার টাকা, চালডালকে ২৫ হাজার টাকা, ফুডপান্ডাকে ১৫ হাজার টাকা এবং পাঠাওকে ৯ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
অবশ্য ই-কমার্সের নামে প্রতারণার অভিযোগে ই-ভ্যালিসহ যেসব প্রতিষ্ঠানের কর্তা ব্যক্তিরা কারাগারে আছে তাদের জরিমানা করার তথ্য পাওয়া যায়নি।
জরিমানা করা প্রতিষ্ঠানগুলো হলো দারাজ বাংলাদেশ, আজকেরডিল, ডেইলি শপিং, অথবা, সহজ, পিকাবু, রকমারি, বইবাজার, বিডিশপ, ঘরবাজার, প্রিয়শপ, বিক্রয়.কম, ফুডপান্ডা, পাঠাও, চালডাল, ফালগুনি শপ এবং কিকশা।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা জানান, ২০১৭ সালের জুলাই থেকে ২০২১ সালের আগস্ট পর্যন্ত সময়ে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন লঙ্ঘনের জন্য ই-কমার্স সংস্থাগুলোকে জরিমানা করা হয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে দারাজের মিডিয়া অ্যান্ড কমিউনিউকেশন ম্যানেজার সায়ন্তনী তিশার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তিনি এ বিষয়ে তাদের মিডিয়া এজেন্সি ফোর্থথট পিআর-এর সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন। পরে তাদের কাছে ই-মেইলে প্রশ্ন পাঠানো হয়। অবশ্য তারা কোনো জবাব দেয়নি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে প্রতিনিয়ত অভিযোগ আসছে। নিয়ম অনুযায়ী উভয়পক্ষের শুনানি শেষে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। যাদের বিরুদ্ধে বেশি অভিযোগ তাদের জরিমানাও বেশি হয়। দারাজ একই অপরাধ দ্বিতীয়বার করে বেশি জরিমানা দিয়েছে এমন ঘটনাও আছে।’
২০২০ সাল থেকে ই-কমার্স সংস্থাগুলোর জরিমানার মুখোমুখি হওয়া বাড়ছে বলে জানিয়েছেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বাবলু কুমার সাহা। তিনি বলেন, ১৭টি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৯০ শতাংশ জরিমানা করা হয়েছে পণ্য বা সেবা সঠিকভাবে না দেওয়ার জন্য।
প্রতারণার হাত থেকে রক্ষা পেতে ভোক্তাদের আরও সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন এই কর্মকর্তা।
ভোক্তাদের সঙ্গে প্রতারণায় জড়িতদের কঠোর শাস্তি দাবি করেন কনজুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি গোলাম রহমান।


ঢাকাটাইমসকে তিনি বলেন, ‘শুধু ই-কমার্স নয়, যেসব প্রতিষ্ঠান একই পদ্ধতিতে বহু মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করেছে তাদের কঠোর শাস্তি হওয়া উচিত। তাদের বড় অঙ্কের জরিমানা করা উচিত।'
(ঢাকাটাইমস/১৮অক্টোবর/বিইউ/মোআ)

----

সংবাদটি শেয়ার করুন

বিশেষ প্রতিবেদন বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :